চিঠি
❑
মোহন্ত সানন্দা
❑
সানন্দা,
এখনো বসন্ত আসেনি, তাই কোকিলের কুহু ডাক চাইলেও এখন আর বাজবে না কানে! এখন শরৎও নয় যে, শিউলী ফুলে শুভেচ্ছা জানাবো তোমায়! এখন কেবলই গ্রীষ্মের দাবদাহ; তাই এক
বুক মরু তৃষ্ণা লয়ে তোমার দূয়ারে দ্বাড়িয়ে আমি
এক তৃষিত পথিক, যার চলার পথ ততো দীর্ঘ নয়,
যা' তোমার উঠোনের চিলে কোঠা পেড়িয়ে তোমার মনোমন্দিরে প্রবেশ করবে! তবুও তোমার কুঞ্জবনে আমারি বাহারি প্রেমের এক ফোটা দূরন্ত নির্জাস ঢেলে দিলাম এই পড়ন্ত বেলায়, প্রিয়তম, তুমি গ্রহণ করো।
তুমিতো জানো, আমার চান্দে অমাবস্যা হয়েছে আগেই! যেদিন শুক্লা দ্বাদশীর রাতে আমার বাহুবন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করে অচেনা কোন অসূরের হাতে নিজেকে করেছিলে সমর্পণ, সেদিন থেকে আমার আকাশে কেবলই চান্দের অমাবস্যা। আমি বহুবার চেয়েছি এই তারাভরা রাত তোমারই হোক, শত বরষার গভীর অন্ধকার রাতেও তোমার হৃদয়মন্দিরে দ্বাদশীর চাঁদ উঠুক, দক্ষিণা বাতাসে উদ্বেলিত হোক তোমার অখন্ড ধরাধাম! আমি বহুবার চেয়েছি, এমনকি এখনও চাই, বিক্ষিপ্ত নদীর জল তোমার সাগরে মিশে শান্ত হোক, সাগরের লোনাজলে নিষিক্ত হোক তোমার দু'চোখের ঝর্নাধারা!
তুমিতো সুখীই হতে চেয়েছিলে আমাকে একেলা করে! আমাকে দিয়ে নিঝুম রাতের অন্ধকার তুমিতো আলোই গিলতে চেয়েছিলে; তবে কেন আজ এই জোনাক পোকার ক্ষুদ্র আলোয় হাঁটতে চাও জীবনের বন্ধুর পথ! আমিতো তোমাকে সুখীই দেখতে চেয়েছিলাম সানন্দা। কিন্তু জানিনা, কেন তুমি সুখীহতে পারোনি।
সুখ' শব্দটা বড়োই নিষ্ঠুর সানন্দা, সে কেবলই আশা দিয়ে আশাহত করে; তবে ধরা দেয় না! এতোদিনে আর যাইহোক, এই সত্যি টুকু তুমি উপলদ্ধি করতে পেরেছো, এটাই আমার জীবনে অনেক না পাওয়ার মাঝে খুবই বড় একটা প্রাপ্তিই ধরে নিলাম।
আর কথা দিলাম, সবকিছু ফেলে আবার যদি চাও নতুন সূর্যোদয়, বুক পেতে
দেবো, তোমার মনোমন্দিরে আবার পূ্জার ডালা সাজাবো, সবকিছু ভুলে নিজেকে করবো সমর্পণ! তোমার সুখের জন্য এ আমার ছোট্ট প্রয়াস।
ভালো থেকো।
তোমারই মোহন্ত।
❑
মো. মাসুদুল ইসলাম।
২১/০৫/২০২১ খ্রি.।

