একটি ঘরবন্দী ঈদ অভিজ্ঞতা

0


একটি ঘরবন্দী ঈদ অভিজ্ঞতা

আব্দুল্লাহ জিয়াদ

ঈদের দিন বলে কথা, উঠলাম যথারীতি সাতসকালে। স্নান সেরে পাঞ্জাবি পড়ে আতর'টাও লাগিয়ে নিলাম। মেয়ে বললো; তুমি নাকি ঈদের মাঠেই যাবা না,তো এগুলো দেখাবা কাকে? বললাম, মা'রে তুই আর তোর মা দেখলেই চলবে! আমি অপেক্ষায় আছি, বহুদিনের কাঙ্খিত খায়েশ ঈদের সকালে খাবো সেমাই ফিরনি পায়েস! অবশেষে স্ত্রীধন রেডি করে আনলেন। কিন্তু খাবো আর কি, রাজ্যের ভাবনারা এসে আমার মাথায় ভর করেছে!

আমার একটা বাজে অভ্যাস হলো, ভালো কাজের সময় দুনিয়ার খারাপ কথা মনে আসে। যেমন নামাজের সময়; গ্রুপের লোকজনের কথা মনে হয়, মেয়ের স্কুলের টিচারের কথা মনে হয়....। যাইহোক,সেমাই খাওয়ার সময় মনে হল একটা ভিডিওর কথা! যেখানে দেখেছিলাম কি নোংরা পরিবেশে পা দিয়ে খচিয়ে খচিয়ে সেমাই বানানো হয়,সাথে শ্রমিকের গায়ের ঘাম মিশে একাকার! আমার রুচিটা নষ্ট হয়ে গেল। বেশি খেতে পারলাম না।

নয় ছয় অনেক ভেবে, সাড়ে আটটার দিকে ঈদের নামাযের জন্য স্থানীয় মসজিদে গেলাম। সেখানে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য! সব লোকের মুখে রঙ বেরঙের মাস্ক দেখে মনে হলো মানুষ নয় গরুর জন্য এই ঈদ আয়োজন। নামাজ শেষ করে এসে বাসায় দেখলাম, পাশের বাসা থেকে আরো কয়েক বাটি সেমাই ফিরনি পায়েস এসেছে। লও ঠেলা! গিন্নীর সাফ জবাব তোমাকেই সব খেতে হবে। ভাবলাম রোজাটা যে কেন আরো দীর্ঘ হলোনা! গিন্নীর বকবকানি শুনে আমার সঙ্গের সাথী মোবাইলটা নিয়ে শুয়ে পড়লাম।

দুপুরে একটু ভারি খাবার খেয়েছিলাম। মেয়ের আবদার অনুযায়ী বিকালে সপরিবারে একটু ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু কি আর ঘুরবো! মনোরম শান্ত প্রকৃতির কোল জুড়ে টিনএজ রোমিওদের জয়জয়কার! কিছু ছবি তোলার পর সন্ধ্যায় ফিরে আর কোথাও যাইনি।

এগ্রুপ ওগ্রুপ সেগ্রুপ ঘুরে রাত এগারোটায় ঈদ দিবসের যবনিকা টেনে শেষ আশ্রয় স্থল বিছানাতে গা এলিয়ে দিলাম! ওম শান্তি...........

 

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)